|
Contributors:
Poets and Translators:
Poets and Translations
Alicia Ostriker, Álvaro Mata Guillé, Amir Or,
Baitullah Quaderee, Bill Wolak, Bishnupada Ray,
Carolyne Wright, Daniela Negrete, Ekok Soubir,
Hassanal Abdullah, Helena Berg, Jaehyung Park, Joan Digby, Jyotirmoy Datta, Kabir Chowdhury,
Kalina Izabela Zioła, Maid Corbic, Maria Mistrioti, Mohammad Nurul Huda, Peter Cole, Slava Konoval, Stanley H. Barkan, and Sungrye Han
Poetry in Bengali
Prabir Das, Naznin Seamon, Ahana Biswas,
Tareq Mahmud, Shourav Sikder, Al Imran Siddiqui,
Farhan Ishraq, Chandan Das, Laila Farzina, and Al Noman
Letters to the Editor
Teodozia Zarivna, Kalina Izabela Zioła,
Majed Mahtab, and Ehsanul Habib
Cover Art:Jacek Wysocki
Jacek Wysocki
Logo:
Najib Tareque
|
|
Celebrating 24 Years of Publication
প্রকাশনার চব্বিশ বছর
Cover Art: Jacek Wysocki
প্রবীর দাস
এইসব ছোটো ছোটো
টুকিটাকি এটা সেটা অবিন্যস্ত শিরদাঁড়া বাঁকা—
তবুও ফেলার নয়, সংসার, কোনোদিন ইতিহাস
এখনও নৃত্যরত, কবির কলম, কুড়োনো অক্ষর
থেকে এক একটি আগুন, কারও বা সর্বনাশ।
ভিড় ঠেলে ঢুকে পড়ে নিপীড়ন বিষয়ক সমস্ত
দিৎসু হয়ে ওঠা বিবর্ণ ছবি, সেতু পারাপার
দৃশ্য, স্পষ্ট নয়—গাছের কোটরে বসে দেখে
অচেনা সেই পাখি। সুখ না শোক, কীভাবে বলি
কী নামেই বা ডাকি!
শান্তিনিকেতন
নাজনীন সীমন
'ধ্বস্ত সময়
ঝড় উঠেছে প্রবল জোরে
মেঘ করেছে কালো
হৃদয় গভীর খুব ভেঙেছে
ছিন্ন বুকের পাল-ও।
সলতে পোড়া আলো এখন
মিহিন সুরে কাঁদে
বেহাল সময় ঘুরছে কেবল
তাল হারানোর ফাঁদে।
তানপুরাতে সুর উঠেছে
বেহাগ রাগের ঘোরে
একলা সময় কাঁপছে ভীষণ
মৃত রাতের ভোরে।
সমস্ত দিন অপেক্ষাতে
কাটছে একা একা
চার দেয়ালে বন্দী প্রহর
কষ্টতাপে সেঁকা।
জমাট বরফ সঞ্চিত জল
ক্ষীণ নদীর ধারা
'ধ্বস্ত সময় প্রবল জ্বরে
হাঁটছে দিশেহারা।
অনভ্যাসের য-ফলা
অনভ্যাসের য-ফলাতে ভর করেছে দারুণ অসুখ
সারাটা দিন বিঁধতে থাকে মগজ এবং হৃদয় জুড়ে
তীরের মতো সূক্ষè ফলা,
কয়েক যুগের রেওয়ামিলে সংখ্যাগুলো ওলোট পালোট।
শূন্যগুলো হারিয়ে গেছে হন্যে হয়ে মরছি ঘুরে
ডানে বাঁয়ে চর্তুপাশে,
গভীর গোপন ক্ষতগুলো চরের মতো উঠছে জেগে
দগদগে ঘা ডুমো মাছি আগাম দখল নেয়ার আশায়
ভনভনভন ঘুরছে অনেক।
রঙিন ঘুড়ির চেনা আকাশ আকস্মিকই এলোমেলো
ঝড়ের আভাস কুঁচকে দিলো ভাসতে থাকা মেঘগুলোকে,
চেনা স্বরে ভিন্ন কাহন
সন্তমুখের মানুষগুলো দ্রুত কেমন পাল্টে গেলো
বিবর্তনের ধার না ধেরে দাঁতে নখে এবং চোখে
বিশালাকার দানব হলো এক এক করে ক্রমান্বয়ে,
নগণ্য সব হিসেব নিকেষ কাগজ জুড়ে বসে থাকে
লিউকোমিকে অসভ্যতার অস্তগমন অনিবার্য যখন তখন।
ছুরির ধারে এফোঁড় ওফোঁড় সুবর্ণ সব সময় যতো
বুকপাঁজরে সে নাম এখন অবিশ্বাসের ঘণ্টাধ্বনি
বাজিয়ে চলে বিরামবিহীন; কান্নাধ্বনি উথলে ওঠে
কিন্তু আবার বলক দেয়া চায়ের মতো ঢিমে জ্বালে
যায় সেঁধিয়ে প্রকট ঘৃণার নাভিমূলে।
পূর্ণ পাতার ছেদ
পূর্ণ পাতায় ছেদ পড়েছে
হারাচ্ছে খেই মন
উড়ছে সময় পাগলা হাওয়ায়
স্বেচ্ছাচারী ক্ষণ।
পুড়ছে সময়, পুড়ছে মগজ
ভাবনাগুলো একা
সংক্ষুব্ধ হৃদয় জুড়ে
সন্ধুক্ষণের লেখা।
সুরম্য সব অট্টালিকা
পাথর বাঁধা সুখ
সঙ্গোপনে জল এসেছে
ভাসিয়ে দিতে বুক।
এক বিছানা দুটো বালিশ
মধ্যপাড়ায় চাঁদ
হাত বাড়ালেই হাজার রকম
ভালোবাসার ফাঁদ।
উপেক্ষা আর অবহেলায়
সমাজ কাটে সাঁতার
সন্দংশের খোঁজে খোঁজে
প্রহর কাটে আমার।
বদ্ধ সময় অবাধ্য মন
সন্তরণের বেলা
সমাঘ্রাত সময় খেলছে
নিদারুণের খেলা।
নিউইয়র্ক
সুমন সরদার
কেবল একা
এই মজা পথে একদিন ঢেউ তুলে গিয়েছিলা
বাউলের একতারা সুর—
বাতাসে গেরুয়া ওড়ে, সুপ্ত থাকে অন্তরে সংঘাত
সংসার ত্যাগের মহিমায় আরেক সংসার রজ্জু
ধরতে না পারার অসুখ
নিয়ত বিষিয়ে তোলে মধ্যাহ্ন জানালা
পাওয়া না পাওয়ার হিসেবটা বড়ই অদৃশ্য থাকে
মুক্তির জন্যে যে যুদ্ধ তা কি দৃশ্যমান
দৃশ্যত অসংখ্য প্রতিযোগিতার দৌড় নিয়েই মানুষ ব্যস্ত
লুপ্তবর্ণ আঁধারের গভীরতা কোথাও কোথাও
যখন পাখিরা একসঙ্গে নীড়ে ফেরে সন্ধ্যেবেলা
অথবা ফেরে না
যখন পশ্চিমে লালসূর্য টাইটানিকের মতো ডুবে যায়
অথবা ডোবে না
তখন অপাপপুষ্ট একজোড়া চোখ শুধু স্থির হয়, দেখে;
প্রতিযোগীহীন প্রতিযোগিতার মাঠে
বেড়ে ওঠে এক বৃক্ষ
নিভৃতে, কেবল একা!
ঢাকা
অহনা বিশ্বাস
নববর্ষা
১
আমি বুঝে নিয়েছি সব সংকেত, আকাশের কালো হাসি।
তুমি বজ্রকে মানিকই বলো, আর মৃত্যুই বলো
তার মুখোমুখি যেতে যখন হবে
তখন যাওয়াই যাক।
২
গৃহস্থ ডালপালা ছাঁটছেন বর্ষায়।
যার ছাগল, তিনি মাথার দিক থেকে কাটবেন,
নাকি পায়ের দিক থেকে, ঝটকা না কি জবাই,
তাতে কীইবা এসে যায় আমাদের।
নর্দমার পাশে রক্তমাখা ডালপালা,
কাদায় ডুবে যাওয়া মুণ্ডুকাটা করবী স্থির চোখে তাকিয়ে
কোথা থেকে একটা ভেলভেট পোকা উড়ে
মৃত টগরের সাদা পাপড়ির ওপর বসতেই—
কী করে যে তার চোখে পরিষ্কার অশ্র“ দেখা দিলো।
বর্ষার সময়, গৃহস্থ আপ্লুত। তার উঠোনে এখন
সটান আলো আসছে। কোথাও কোনও বাধা নেই।
৩
না হয় এক দুরন্ত অশ্বারোহীর মতো তুমি এলে,
সে তো কেবল আমি গুঁড়ো গুঁড়ো হবো বলে।
দাঁড়াও, একে নানা রঙের উপমা দিয়ে সাজিয়ে তুলি।
যেনো নতুন বরের কপালে টিপ চন্দন পরাচ্ছি।
সবাই হাঁ করে দেখছে।
হ্যাঁ, যা বলছিলাম—
একে অনায়াসে তুমি কালবৈশাখী বলতে পারো।
বলতে পারো মেঘভাঙা বৃষ্টি,
অথবা বাঁধভাঙা বন্যা, শিকড় ওপড়ানো প্রাচীন অশথ,
অথবা শূন্য মাঠে হা হা হাসি,
চরাচর ঝলসানো বিদ্যুতের ছোবল।
তবে কী জানো, বাজ যাকে খায়
সে জীবিত না কি মৃত—কিছুই বোঝা যায় না।
মাকে লেখা চিঠি
১
ষাঁড়ের পিঠে চেপে বসেছি সপ্রেমে।
এবার তুমি ছায়া দাও। তেঁতুল পাতার
চিরুনির মতো সাদা কালো ডুরে ছায়া।
সে এখন বিশ্রাম নেবে। তাঁর কুঁজে মাথা রেখে
আমিও ঘুমাবো দীর্ঘ।
শুধু তুমি থেকো আশেপাশে।
২
সন্ধে হলে কেবল আমাকে জড়িয়ে ধরো মা।
অন্ধকারকে এখনও আমি ভয় পাই।
শান্তিনিকেতন
তারেক মাহমুদ
টেবিল
আমার ঘরে আজ একটি টেবিল এলো
ঘরের মধ্যে টেবিল না হলে নাকি চলে না
টেবিলের শরীরে কাঁচা গন্ধ, রঙ করা হয়নি, প্রয়োজনও নেই
যার যা রঙ তার তা থাকাই ভালো
এই টেবিলটি কোন কাঠের জানি না
কোন কাঠের টেবিল ভালো হয়
সে সম্পর্কে আমার ধারণা নেই
যদি জানা যেতো টেবিলটি কোন কাঠের
কোন এলাকায় তার জন্ম, কোন ভিটের মাটিতে
কোন ফলের বীজ থেকে সে জন্মেছিলো
কতোদিন দাঁড়িয়েছিলো একই স্থানে
কতো মানুষ সেই গাছটির বেড়ে ওঠা দেখেছে
হয়তো সেই গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছে কতো পথচারী
কোরবানি-ঈদে সেই গাছের নীচে
কতো নিরীহ পশুকে স্রষ্টার দরবারে উৎসর্গ করা হয়েছে
সেই গাছে কতো কতো পাখি কতো কতো গান গেয়েছে
আহা, গাছটি হয়তো ইচ্ছে মতো বেড়ে উঠতেও পারেনি
হয়তো গাছটি ছিলো কোনো গরীব চাষীর
মেয়ের বিয়েতে এতো আদরের গাছটিকে
সস্তা দরে ব্যাপারির হাতে তুলে দিতে হয়েছে
সেই গাছটি কাটতে কতো মানুষ লেগেছে
গাছটির বেদনা কি কেউ বুঝেছে
গাছটি কাটবার পর শেষ হয়েছে কিছুদিন
অভ্যাসবশত কতো মানুষ গাছটির দিকে তাকিয়েছে
শূন্যস্থান দেখে কেউ হয়তো স্মৃতিকাতর হয়ে উঠেছে
গাছটি কাঠ চেরাইয়ের কল থেকে কাঠ হয়ে এসেছে এই শহরে
কাঠমিস্ত্রি কতো শ্রমে বানিয়েছে এই টেবিল
আহা, গাছটি যখন কাঠ হয়, কাঠ যখন টেবিল হয়
তারও পরে কতো কতোদিন অনাদরে পড়েছিলো সে
কতো ঝড় কতো বৃষ্টি কতো রোদ কতো ধুলাবালি
সে সয়েছে নীরবে
আমার ঘরে আসতে
তাকে কতোগুলো পথ অতিক্রম করতে হয়েছে
আমি টেবিলটির দিকে তাকিয়ে আর টেবিল দেখি না
টেবিলটি তার সমস্ত স্ক্রু ফেলে যেনো কাঠ হয়ে যায়
কাঠগুলো যেনো জড়ো হয়ে গাছ হয়ে যায়
গাছটি দাঁড়িয়ে থাকে, বাতাসে দোল খায়
তার ডালে পাখিরা গান গায়, পথিক বিশ্রাম নেয়
গাছটি তখন অনেকের আশ্রয় হয়ে ওঠে
ঢাকা
সৌরভ সিকদার
জলহীন মরানদী
আমরা এখন আর কেউ
কাউকে করি না স্পর্শ। যদিও একই
বিছানাতে একই ছাদের নিচে আমাদের বাস।
মাঝে মাঝে অবশ্য অনিচ্ছাকৃত
বানান ভুলের মতো
আমার হাতের সঙ্গে তার হাত কিম্বা
তার পায়ে আমার পায়ের ছোঁয়া লাগে।
পঁচিশ বছর আগে আমরা একক স্পর্শে জ্বলে উঠতাম
ভিসুভিয়াসের মতো, আর এখন সেসব
অনুভূতি মৃত কোষের মতন মলিন নিথর;
ভালোবাসা মরে গেলে
শরীর আসলে মরা গাছ হয়ে যায়।
প্রতিরাতে ঘুমোবার আগে দাঁত ব্রাশের মতোই
এক অভ্যস্ততার শেকলে বাঁধা পড়ে আছি এখনও।
বিছানায় পাশাপাশি দু’টি বালিশ ঠিকই আছে,
শুধু মাঝখানে জল-স্রোতহীন এক মরানদী
টিকিয়ে রেখেছে তার বিশিষ্ট কঙ্কাল;
হয়তো অদৃশ্য এক মায়ার সুতোয়
কোথাও আটকে আছি আমরা দু’জন!
ঢাকা
আল ইমরান সিদ্দিকী
জানালা
দিনকে দিনে, ভড়কে দিয়ে আমার দিকে দিকে
তড়িৎ-গতি, একেক করে দেয়াল ওঠে শুধু
কাঁটালতার মতোই ওঠে, আত্মগ্লানি যেন
দেয়ালগুলি—এমন লাগে, প্রাংশু মরু—ধুধু।
তোমার প্রিয় কালো বিড়াল সঙ্গে করে নিয়ে
হঠাৎ এসে যেই দাঁড়ালে দেয়াল ঘেঁষে তুমি—
নারী তো নও, নারীর মতো আকার শুধু আছে—
জানালা এক—অপর পাশে দেখাও বনভূমি:
ডিঙি নৌকা, পূর্ণ জলা, পানায় ছোট ঢেউ
নৌকা চলে—শাপলা নড়ে, বৈঠা হাতে কেউ
উপর দিকে মুখ তুলেছে, বৃষ্টি মাখে মুখে
আনন্দিত, পানির দিনে শ্রাবণী কৌতুকে।
ডানা ঝাপটে সারস ওড়ে, তরুণ গাছে বসে—
পাখির ভারে এ-গাছ গিয়ে ও-গাছে মুখ ঘষে;
নেহাৎ মৃদু শব্দ ওঠে—হাওয়াতে ফিসফাস—
বনের পারে ঘটছে যেনো খাঁটি সর্বনাশ।
আকাশ কিছু আলো দিচ্ছে কালো মেঘের ফাঁকে;
আর যা-কিছু খোঁজে মানুষ, তার ইশারা আঁকে।
নিউজার্সি
ফারহান ইশরাক
বস্তুসঙ্ঘে, সারাবেলা
এক বাক্যে কথার বোঝা তুলতে এত দ্বিধা! অর্থসমেত—
ভাসমান থাকার বিষয়ে—প্রচুর রসদ...মতামত
অবহেলা পাল্লায় খুব ভারী—প্রায়শ-ই তুলনা নির্ভর
বিবেচনায়—কাঁধের শক্তি বিষয়ক প্রশ্নপাত?
শ্লাঘার নমুনা রয়েছে বটে—আত্মচিহ্নে—ঘামে—
প্রসঙ্গক্রমে—পিন পতন প্রগাঢ়তায় যাবো,
দায়সুলভ নয়—ততোধিক অনুভূতি—
কলার খোসায়—তাজা গাছে তেজি রোদ—কুয়াশার
গাঢ় ফেনা—সাবানের যৌন প্রস্তাবে..., দ্বিধা—এবং
মীমাংসাহীন পিচ্ছিলতা—ধোঁকাবাজি, শহরগঞ্জে—
প্রাম পটভূমি—জ্বলন্তপ্রায়—তারা পটানোর তীরন্দাজি
চতুরতা গেছে দাগ রেখে—সরল সহজ সমতলে—
ভেজা ঘ্রাণে ব্রত ভাঙা ব্লাউজসমূহ—ক্ষতিগ্রস্ত, আংশিক
এমনও রয়েছে গল্প—পুরোটাই ছাইভস্ম—ধ্বংসাবশেষ
বাহ্য উষ্ণতা—মূল এতো নীচতার দিকে ধাবমান!
—পায়েসঘটিত সামাজিক লোকাচার—মলাটে মলাটে
প্রকৃত পাতাল গেছে আন্তরিক মগ্নতার দিকে—
জানালার শিকে বৃষ্টির ঘন জং-এরও খুব
ব্যঞ্জনা পাওয়া যাবে—চিঠি যুগের বহু স্পর্শপরতা
—এ পথেই গেছে সাবধানে—জুতার আঘাতে যতো
প্রতিভাবান ধুলো—ডাকযোগে—ধারাভাষ্য সমেত
কিছুটা উদ্ধারে, বাকি অংশ পানপাত্রগভীর—নিচেই
রঙিন কাঁকড়া—অথবা তার নাজুক অ্যান্টেনা মাত্র
বলতে পারবে না—কবিত্বে, কিংবা পৌর ধান্ধায়
ফেঁসে গিয়ে সজনেগাছ...উচ্চবাচ্য নেই, দৃশ্যত
হাঁটা পথে কাঁটাদার মশকরা—ফুল—তিরস্কার,
এবং তার উল্টো পিঠ: স্নেহ—স্বাদ—শর্করাসমূহ—
সুরের টানেই গান—অল্পশিক্ষিত লোহা—বয়সী কড়ই—
আসলে তার পেটভর্তি তক্তা দেখেছি—কল্পনায়
অথবা—সাধ্যাতীত বড়ো বাড়ি—উৎস লুকোনো আয়—
কালো মুদ্রার ডালপালা—খুচরো হিশেবে ঝংকার!
এ-রকম ঘটে; ছলনা বা কবিতা শাস্ত্রে—যেসকল
অপদ্রব্য থেকে মুক্তি চেয়েছে সভ্যতা—যেমন
মাছে—সব্জিতে—পশুর চর্বিতে: এতোই আস্থা?
ঘর—আসবাব—প্রধান সারথি কাঠ—
মাছ ভাত খাওয়া মানুষেরা দুধেল জ্যোৎস্নায়
মহাজগতের গহ্বরে—ভেজে—অন্তরঙ্গতায়—
এবং এরাই—উড়োজাহাজ আবিষ্কারে...এবং এরাই
রক্তে চুমুক দিয়ে...একের অনুপাতে অন্যেরও
চাহিদাবস্তুগুলির পার্থক্য রচনা করে—ঘরে ঘরে,
মালিকানায়—হাঁটা পথে—কবিসঙ্ঘ জানে—
গাছ বলতেই—জ্যোৎস্নাফলিত পাখি—ফল—
শিশির—রোদ—অন্ধকার—পাতা—
করাতের মিষ্টাচার! —প্রতিদানশীলতা, যেমন ঘুণ...
দাঁতের ঘাঁট থেকে ছিটকে পড়ায় ভেজা তক্তায়
চাঁদ এসে সামান্য উপঢৌকন দিয়ে যাবে!
পেরেক ছত্রাক
একসঙ্গেই ছিলাম—বহুমাত্রা কুয়াশার
ঘ্রাণে, অভিন্ন দ্বীপে, পাতা ঝরা
পেয়ারা বাগানে—নাভিগঞ্জ পেরিয়ে
সাপ,
গেল দূর গ্রামে—ভয়াল নদীর ডাকে,
যার স্বরে পূর্বমেঘ শাদা—
আতার পাতায় তখন
নরম আর অবিশ্বাস্য ডোরবেল টেপা
রোদ
.
একই শাখা থেকে দুইটি লাল কাক
একই দিকে যাবে—জীববিজ্ঞানে
এরকম আপ্তবাক্য নেই—তথাপিও
রুটির ভিন্ন প্রান্তে, যৌথ দংশনে
দুই প্রতীকের জ্বলন্ত পিঁপড়া....
এসব চিত্র থাকে—গাছে গাছে,
সহজ কাকতাল
.
ছন্দে না-বলা সংলাপে—ছন্দভাঙা ভয়
থাকে নাকি—কেনো থাকবে না!
চিনিমাখা পেরেকের ছাঁতে
হাতুড়ি পড়েছে—কার আহ্বানে?
ভাষা হারানোর প্রসঙ্গসমূহ
ইঙ্গিতে কথা বলে—দেরিদার টানে
নীরবতাকেই বুলি শেখানোর
গর্জন—এবেলার এইটুকু পরকীয়া!
গোডো
লতা—জ্যান্ত মরা, পাথর চাপা পিঠে
ভাবে—লাভ কতোটা ভোরের আলো শুরু
নালা—জুতোর নিচে বাঁধানো কংক্রিটে
খোয়া—ঢালাই করা, শক্ত এবং পুরু
পায়ের—আভাস পেলে মুহূর্তে মর্মর
সবাই—বধির যেনো, কে শোনে কার স্বর!
নখর—ছিটকে পড়া, ব্লেডের কর্তনে
হাতে—যুক্ত হতে যতেœ রেখা গোনে?
লোহা—ঘষলে পায়ে ঝরনা শুরু হবে?
নাকি—অপেক্ষা সার বোকামি উৎসবে!
ঢাকা
চন্দন দাস
মধ্যরাতে রোদ
সবেমাত্র ঘনীভূত হয়েছে নিম্নচাপ
গ্রাম থেকে শহরে
চারিদিকে ধ্বংসের পূর্বাভাস, তীক্ষè
ফলার মতন খেলা করে বৃষ্টিগুঁড়ি
মৃত্যুর আমন্ত্রণ নিয়ে দাঁড়িয়ে
আছে মৃত্যু।
খেলা শেষ হতে ধ্বংসের ¯তূপ থেকে
বেরিয়ে এলো এক ঝুড়ি শান্তি-মুগ্ধতা
ভেজা শরীর থেকে চুঁইয়ে পড়ে অপরূপ
সৌন্দর্য আর বাতাসে ভেসে
আসে সুরতরঙ্গ।
অশান্ত-উন্মাদে খেলা শেষ করে
এখনও জেগে থাকি মধ্যরাতে রোদ
দেখবো বলে।
মেদনীপূর
লায়লা ফারজানা
জলজ
একটি করে বুদ্বুদ উঠছে আর নামছে
দ্রবীভূত ছাদ, গলিত সূর্য, তরল প্রাচীর।
উদগ্রীব কৌতূহল ডুব সাঁতারুর চোখে,
বিস্ময়। আমি শুঁড় নাড়ছি
স্মুদ সারপেন্টাইল কার্ভে।
ঈষদুষ্ণ মাধ্যম, ক্ষীণ কোরাল টিন্ট।
চারপাশ শান্ত, বাজারের থলে,
তিনটি টিয়া। হাতে তিনটি নুড়ি।
সকালে কাজ নেই। স্বাক্ষরের অপেক্ষায়
একটি ডিভোর্স পেপার আর একটি
কাবিননামা। শেরওয়াানির মাপ
নেয়া বাকী। বাকী কিছু বাড়ি ভাড়া।
একটি ঢিল বুক চিরে আসে। ছোটো থেকে
বড়ো ঘূর্ণিবলয়, একে অপরে প্রবিষ্ট।
মনে হয় যেনো কতো পুরাতন!
পার্থিব নুড়ি হাতে তুলে নেই।
আঁশটে শরীরে রংধনুর ঝিলিক।
সাইরেন বাজিয়ে জাহাজ আসবে এখন।
তলদেশ ফেনিল, কালো পেইন্টেড।
নিউইয়র্ক
আল নোমান
দুধ কুমার নদীতে
১৯
মাথায় যখন পোষা পোকাটা কামড় বসায় তখন মনে হয় এক্ষুনি
চাঁদের সাথে তোমার ছবি আঁকি। তখন ইচ্ছে করে সাদা সুতির
একটা শাড়ি পরে তিন রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকো। আমার রং
তখন একটা সরু জীবন প্রণালির মধ্যে ঢুকে যায়। অনুনয় বিনয়
করে যখন লাভ হয় না, কসাইয়ের বাড়িতে গিয়ে বলে আসি
মাথাটা আমি কেটে ফেলবো। কসাইয়ের ছোটো মেয়েটার বয়স
সতেরো ছুঁই ছুঁই। বড়ো মেয়েটা পালিয়ে চাঁদ দেখতে গিয়ে ফিরে
আসে নাই। কসাই আমার ডান আর বাম হাত একসাথে চেপে
ধরে মোটাপাতার হোগলার ভেতর ফেলে দেয়। সতেরোর
মেয়েটা আমাকে ছেদ করে যায়। আমি অনেক চেষ্টা করেও
মাথাটা কাটতে পারি না।
২৯
ইঁদুরের সাথে হাটে গিয়ে বিক্রি হয়ে যাওয়া ছোলা মটরশুঁটি
নিয়েই গর্তে ফিরে আসলাম। এখানে একটা সময় নিয়ে ঢুকে
যাওয়া যায়, অন্ধকার হয়ে থাকা যায়। মাটির গন্ধে আমার ঘুম
হয়, আবার হয়ও না। কোথাও স্যাঁতসেঁতে পরকীয়া, পুরাতন
রুক্ষতা। ইঁদুরের লেজ ধরে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে; আধুনিক কাল। অসুখ
নেই, আছে ঔষধি নীরবতা। আমি যখন সিগারেট খেতে গেলাম,
সবাই জেগে জেগে হাহুতাশ করতে লাগলো। বলতে লাগলো, যে
সব পাপ আমি করেছি আগেরবার এসে। আমার ঘুম হলো না।
ওরা আবার ঘুমালো। আমি দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে ভাবছি, ওই
মেয়েটাকে এতো দুঃখ দিলাম কেনো! তখন হুড় হুড় করে সব ইঁদুর
বেরিয়ে আসলো, আমি একা গর্তে ঋতুস্রাবের রক্তের সাথে
সবুজ কুমিরটা দেখতে পেলাম! আমার পরিশুদ্ধ হবার কোনো
বাসনা টের পাচ্ছি না ওর চোখে। এখানে আমার কেবল মনে
হচ্ছে কিছু চিংড়ি মাছ আমার ডান হাতের আঙুল ছুঁয়ে দিচ্ছে
আবার হারিয়ে যাচ্ছে। কুমির আমাকে কামড়াতে এলো না।
ফিরে গেলো। ওর অনেক রাগ, অনেক অভিমান।
ঢাকা
Find us on Facebook
|
|
Printed Version
পত্রিকার মুদ্রিত কপি
Contents:
Poetry in English 1
Poetry in English 2
Poetry Translated from Other Languages 1
Poetry Translated from Other Languages 2
Poetry: Bengali to English
Poetry in Bengali
Editor's Journal
Shabda News
To the Editor
শব্দগুচ্ছর এই সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণ ডাকযোগে পেতে হলে
অনুগ্রহপূর্বক নিচে ক্লিক করে ওয়ার্ডার করুন।
To order for the hardcopy of this issue, please
click on the following link:
Get a Hardcopy
|
|