Shabdaguchha, An International Bilingual Poetry Journal


Avijit Roy
Hassanal Abdullah
Kulada Roy
Naznin Seamon
Shopno Kumar
Tapan Bagchi












































































































































































































































Back to Issue 45_46
Back to Front Page
Shabdaguchha: Logo
Issue 45/46 : July - Dec 2009 : Volume 12 No 1/2



Poetry Dialogues:

হাসানআল আব্দুল্লাহ

প্রবাহিত অন্ধকার

প্রবাহিত অন্ধকারে বুক ঢেকে যায়
শীতার্ত সময় এসে চেপে ধরে গলা
মহাবিশ্ব অকারণে দড়ি বেঁধে পায়
বন্ধ করে দিতে চায় এই পথ চলা

দলিত ঘড়ির কাঁটা আমাদের হাত
মাথাগুলো থ্যাঁতলানো পচা জবা ফুল
মিসাইল তাক করা ভয়ার্ত বরাত
চারিদিকে হাহাকার মহা হুলস্থূল

পৃথিবীর নাম ধরে কয়জন লোক
বিকৃত ভাষায় ডেকে গেলো কিছু কাল
অথচ তাদের ঘরে হলো রাজ ভোগ
আর সব মানুষেরা পথের কাঙাল

মহাকাশে একবিন্দু ক্ষুদ্র ধূলি কণা
আপেক্ষিকতার মাপে তার থেকে ছোটো
ভাসমান এই গ্রহ যেনো আবর্জনা
অন্ধকার কেড়ে নিলো তার দুই ঠোঁটও।

মুক্তমনা ডট কম থেকে:

মুহাইমীন:
মহাবিশ্ব অকারণে দড়ি বেঁধে পায়
বন্ধ করে দিতে চায় এই পথ চলা

কথাটা বুঝলাম না। সুন্দর কবিতার জন্য ধন্যবাদ। কবিতায় এসময়ের ভাবনা ফুটে উঠেছে।

হাসানআল আব্দুল্লাহ:
ধন্যবাদ মুহাইমীন আপনার মন্তব্যের জন্যে। আপনি যে পঙক্তি দ্বয়ের কথা তুলেছেন, তা অবশ্য এসেছে বিগক্রাঞ্চ-এর কথা চিন্তা করে। স্টিফেন হকিং-এর মতে, বিগব্যাঙ দিয়ে শুরু হওয়া আমাদের মহাবিশ্ব এক সময় শেষ হয়ে যাবে, পৌঁছে যাবে আরেকটি অদ্বৈতবিন্দুতে (সিঙ্গুলারিটি), সে কথাই চিন্তায় এনে একটু রসিকতা করে মহাবিশ্বের পায়ে দড়ি বেঁধে দিলাম। (যদিও হকিং এই মুহূর্তে তাঁর ওই ধারণা থেকে অনেকটা সরে এসে বলছেন মহাবিশ্ব অনন্তকাল ধরে চলে আসছিলো এবং অনন্তকাল ধরে চলবে। শুরু বা শেষের চিন্তা অনেকটাই তাঁর বিষয় থেকে সরে গেছে। সেটা অবশ্য অন্য কথা।) তবে পায়ে দাড়ি বাধার ব্যাপারটা হয়তো একেবারে রসিকতা নয়, সম্ভবত স্ট্রিং থিয়রি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে। সেটা আমি আমাদের বিজ্ঞানী, ‘আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী’ নামের একটি অসামান্য গ্রন্থের লেখক অভিজিৎ রায়ের উপর ছেড়ে দিলাম। অভিজিৎ, আমি যা বলছি তার কি কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে?

মামুন:
@হাসানআল আব্দুল্লাহ,
“দলিত ঘড়ির কাঁটা আমাদের হাত
মাথাগুলো থ্যাঁতলানো পচা জবা ফুল”

এক কথায় চমৎকার, এমন কবিতা অনেকদিন পর মুক্তমনায় পাওয়া গেল। ভালো থাকুন।

হাসানআল আব্দুল্লাহ :
@মামুন,
আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্যে আমি কৃতজ্ঞ। ভালো থাকুন।

অভিজিৎ রায়:
@হাসানআল আব্দুল্লাহ এবং মুহাইমীন,
আসলে, সিঙ্গুলারিটির যে ব্যাপারটা (যেটা ধর্মবাদীদের কাছে সব সময়ই খুব আকর্ষণীয় বস্তু, কারণ এর মাধ্যমে নাকি বোঝা যায় যে, মহাবিশ্বের শুরু আছে, আর সেই সাথে নাকি প্রমাণিত হয় ঈশ্বরও আছেন) একসময় হকিং এবং পেনরোজ গবেষণা করে ১৯৭০ সালে বের করেছিলেন, বলেছিলেন মহাবিশ্ব শুরু হয়েছে এক অদ্বৈত বিন্দু দিয়ে, সেটা আর হকিং এখন সত্য বলে মনে করেন না। তিনি তার ‘ইউনিভার্স ইন নাটশেল’ বইটায় পরিস্কার করেই বলেন, ‘It is perhaps ironic that, having changed my mind, I am now trying to convince other physicists that there was in fact no singularity at the beginning of the universe—as we shall see later, it can disappear once quantum effects are taken into account’ অর্থাৎ সিঙ্গুলারিটি আবিষ্কারের বিশ/ত্রিশ বছর পর হকিং ঘোষণা দিয়েই বলছেন—সিঙ্গুলারিটির ধারণা (যেটা নিয়ে ধর্মবাদীরা বিস্তর লাফালাফি করেছেন, এবং এখনো করে চলেছেন) হয়ত ঠিক নয়। আর একটা জিনিসও এ প্রসঙ্গে যোগ করা দরকার। বিগ ব্যাং আর বিগ ক্রাঞ্চের মধ্যে একটা পার্থক্য আছে। বিগ ব্যাং-এর ধারণা বিজ্ঞানে সুপ্রতিষ্ঠিত, এবং এই তত্ত্বের পক্ষে 'কসমিক ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন’ সহ অনেক প্রমাণই পাওয়া গেছে। কিন্তু বিগ ক্রাঞ্চের ধারণা অনেক সম্ভাবনার ভিড়ে একটি হাইপোথিসিস মাত্র। মহাবিশ্বের প্রসারণ সত্যই একসময় থেমে গিয়ে সংকুচিত হতে হতে সিঙ্গুলারিটিতে ফিরে যাবে কিনা—এটাতে কেউ নিশ্চিত নয়। এটা নির্ভর করেছে মহাবিশ্বের সন্ধি বা ক্রান্তি ঘনত্বের (ওমেগা) উপর। ওমেগার মান ১ এর কম হলে মহাবিশ্ব হবে সদা প্রসারিত, আর মহাবিশ্ব হবে উন্মুক্ত। কিন্তু ওমেগার মান ১ এর চেয়ে বেশি হলে মহাবিশ্ব হবে বদ্ধ বা সংবৃত। এক মাত্র সেক্ষেত্রেই বিগ ক্রাঞ্চ হবার সম্ভাবনা থাকছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত ক্রান্তি ঘনত্বের যে হিসেব পেয়েছেন তাতে মনে হচ্ছে মহাবিশ্বের ক্রান্তি ঘনত্ব অনেক কম। কিন্তু শেষ কথা বলার সময় আসেনি। কারন বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, আমাদের চেনা জানা পদার্থের বাইরেও এক ধরনের রহস্যময় পদার্থ মহাবিশ্বে আছে, যাকে তারা ‘ডার্ক ম্যাটার’ বা গুপ্ত পদার্থ বলে অভিহিত করেন। অনেক বিজ্ঞানীই মনে করেন মহাবিশ্বের নব্বইভাগেরও বেশি জায়গা জুড়ে আসলে ছড়িয়ে আছে এই গুপ্ত পদার্থ। এই গুপ্ত পদার্থকে হিসেবে আনলে ক্রান্তি ঘনত্ব-এর মান অনেক বেড়ে যাবে।
এর মধ্যে ১৯৯৮ সালে সুপারনোভা বিস্ফোরণ (supernova) নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেছেন যে, মহাবিশ্বের প্রসারণ আসলে কমছে না, বরং ক্রমাগত বাড়ছে। এই ব্যাপারটা চলতে থাকলে মহাবিশ্বের কপালে ‘বিগ ক্রাঞ্চ’ বলে কিছু নেই, আছে বিগ রিপ কিংবা ‘মহাচ্ছেদন’। আমি আমার বই আলো হাতে চলিয়াছে আধাঁরের যাত্রীর (অঙ্কুর, ২০০৫/২০০৬ পরিবর্ধিত সংস্করণ) পঞ্চম অধ্যায়ে মহাবিশ্বের পরিণতি নিয়ে এ ধরনের বিভিন্ন সম্ভাবনার কথা বিস্তৃতভাবে লিখেছি। ইন্টারনেট ভার্সনটিতেও চ্যাপ্টারটির অংশবিশেষ দেখা যেতে পারে। তবে মূল বইয়ে অনেক ডিটেল আকারে পাওয়া যাবে। আর হ্যাঁ - হাসানের কবিতাটা অপূর্ব। এটা কি নক্ষত্র ও মানুষের প্রচ্ছদ- এর?

হাসানআল আব্দুল্লাহ :
@অভিজিৎ রায়,
আপনার এই মূল্যবান আলোচনার জন্যে ধন্যবাদ। কবিতাটি আপনার ও অন্যান্যদের ভালো লেগেছে জেনে খুশী হলাম। না, এই কবিতাটি নক্ষত্র ও মানুষের প্রচ্ছদ(অনন্যা, ২০০৭) গ্রন্থের নয়। নতুন কবিতা। তবে বিষয় একই। আপনাদের উৎসাহ আমার চলার পথকে প্রসারিত করবে।

মুহাইমীন:
@হাসানআল আব্দুল্লাহ এবং অভিজিৎ রায়,
আমার মন্তব্যে সাড়া দিয়ে আমার কৌতূহলকে আরও বাড়িয়ে দেবার জন্য আপনাদেরকে কৃতজ্ঞচিত্তে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ভালো থেকেন।

হাসানআল আব্দুল্লাহ:
@মুহাইমীন,
ধন্যবাদ। সময় হলে নক্ষত্র ও মানুষের প্রচ্ছদ (অনন্যা, ২০০৭) পড়ে দেখতে পারেন। ৪র্থ ও ৫ম সর্গ মহাবিশ্ব ও এর খুঁটিনাটি নিয়ে রচিত।

ফেসবুক থেকে:

তপন বাগচী:
'অন্ধকার কেড়ে নিলো তার দুই ঠোঁটও'
ভালো লেগেছে কবি। আপনার স্বতন্ত্র সনেট থেকে অনেক উত্তরণ! ওখানে কয়েকটি সনেটের ছন্দে সমস্যা ছিল। মনে হচ্ছে এবার এইসব ঝুলিকালি ছাড়িয়ে উঠেছেন। আর বুঝি পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না! অভিনন্দন!

হাসানআল আব্দুল্লাহ:
তপন, স্বতন্ত্র সনেট-এ ছন্দ সমস্যা; ব্যাপারটা মেনে নিতে পারলাম না, যদিও তুমি দ্বিতীয়বার এই অভিযোগ করলে। কিন্তু প্রথম সংস্করণের মূদ্রণ প্রমাদগুলো তুমি ভালো করে জানো, ব্যক্তিগত আলাপেও বলেছি, সম্পূর্ণ প্রকাশকের গাফিলতি। দ্বিতীয় সংস্করণটা পারলে একটু দেখে নিও বন্ধু। ...এই কবিতাটি তোমার ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। উত্তরণ, সেতো সব কবি-লেখকেরই কাম্য। তা যদি হয়ে থাকে, আমার জন্যে খুশির সংবাদ। তবে তোমার 'আপনি' সম্বোধনটা আমাকে একটু ভাবিয়েছে। ভৌগোলিক ও মনের দূরত্বটা এক হয়ে গেলে কষ্ট লাগবে।

তপন বাগচী:
তোমার বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণের প্রকাশক কে? আমার চোখে যে ভুলগুলো ছিল, তা বানানজনিত নয়, পর্ববিভাগজনিত। দ্বিতীয় সংস্করণে বানান ছাড়া আর কি কিছুই বদল করেছ? আমি প্রায় ৮০০ শব্দ লিখেছিলাম ওই বইটা নিয়ে। কিন্তু কম্পিউটার থেকে লেখাটি হারিয়ে যায় আমার আরো শতাধিক প্রবন্ধের সঙ্গে। নতুন করে লিখতে আর মন চায়নি। আমি দ্বিতীয় সংস্করণ দেখে আবার জানাব। তৃতীয়বার ভুলের কথাটা উচ্চারণ করতে না হলেই আমি খুশি হবো।
আমার এই এক দোষ! নিজে দুইলাইন শুদ্ধ লিখতে পারি না, অন্যের ভুল ধরে টানাটানি। আমার কত যে শত্রু কেবল এর জন্য! আল্লাহ মালুম!
ভালো থেকো। ভালো থেকো।

হাসানআল আব্দুল্লাহ:
'...ভুলগুলো ছিল, তা বানানজনিত নয়, পর্ববিভাগজনিত। দ্বিতীয় সংস্করণে বানান ছাড়া আর কি কিছুই বদল করেছ? আমি প্রায় ৮০০ শব্দ লিখেছিলাম ওই বইটা নিয়ে।' ...এ কথার ভেতর দিয়ে বোঝা যায় দ্বিতীয় সংস্করণটা তোমার হাতে আছে। আর প্রথম সংস্করণের 'বানান জনিত ভুল থেকে যে পর্বজনিত ভুল' এসে গেছে তার জন্যে তো বিশাকা তোমাকেই দায়ী করেছিলো। তুমি অবশ্য বলেছিলে বইটার প্রূফ তুমি দেখো নি। দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকায় আমি ভুলগুলির কথা উল্লেখ করেছি; পরিবর্ধন, পরিমার্জনের কথাও। তবে, তারপরও যদি 'ভুল' শব্দটি ব্যবহার করতে হয় তা তোমার ব্যাপার। এ পর্যন্ত ওই বইয়ের আলোচনা যাঁরা করেছেন তাদের মধ্যে কালীকৃষ্ণ গুহ ছন্দ সম্পর্কে যে কথাগুলো বলেছেন আমি তার সাথে একমত। ...তবে তোমাকে বলি, আরো একটি 'ভুল' আছে সনেটগুলোতে: সেটি হলো চিরাচরিত সনেটের অষ্টক-ষষ্টক রীতি অনুসরণ না করে সপ্তক-সপ্তক আনা হয়েছে। এই ভুলটার কথা অনেকেই বলছেন, তুমি বলো নি বলে ধন্যবাদ।...তোমার 'আবেগময়' ওই ৮০০ শব্দ হারিয়ে গেলে দুঃখ প্রকাশ করেছিলে। 'নতুন করে লিখতে আর মন চায়নি' বলে আজ তৃপ্তি পাচ্ছো জেনে সত্যিই খুশী হয়েছি।

তপন বাগচী:
যে বইয়ের প্রুফ আমি দেখিনি, তার জন্য বিশাকা কিংবা তার বাপেও আমাকে দায়ী করতে পারে না। এই অপপ্রচারটি তুমি আর করবে না বলে আমি বিশ্বাস রাখি। বাচ্চুভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বলেছেন, এইরকম দায় তিনি আমাকে দেননি। দেবেন কী করে, ওই বইয়ের প্রুফ তো আমি দেখি নি! এটি বিশাকার নামে আপনার মনগড়া অভিযোগ! আশা করি এই অভিযোগ তুমি প্রমাণ করবে, অথবা প্রত্যাহার করবে।
'নতুন করে লিখতে আর মন চায়নি' কথাটি কি আমার তৃপ্তির ব্যাপার না আক্ষেপের ব্যাপার, না অক্ষমতার ব্যাপার? আরেকবার ভাব তো! তুমি কী করে এর মধ্যে তৃপ্তি পাচ্ছি মনে করলে? কেবল তোমার ওপর লেখাটিই নয়, আরও শতাধিক লেখাই আমি ফিরে পাব না। সেগুলোও আমার তৃপ্তির ব্যাপার মনে করছ? হায় কবি! তোমার উপর লেখাটা শেষ করতে পারি নি, কিংবা নতুন করে লিখতে পারিনি বলে এরকম শাস্তি দিচ্ছ? মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নিজেকে বাঁচাচ্ছ? কালীকৃষ্ণকে সাক্ষী মেনে নিজের ঢোল পেটাচ্ছ? ভালো থেকো। তোমার বিখ্যাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশ প্রবল! আমার শুভকামনা থাকল! আমি বুঝতে পারলাম, তোমার পক্ষে বললেই দেবতা, আর পক্ষে না বললেই...!

হাসানআল আব্দুল্লাহ:
না, অভিযোগটি আমার নয়, বিশাকার বাচ্চু ভাই আমাকে তাই বলেছিলন। বইটা যখন ছাপা হয় আমি তখন দশ হাজার মাইল দূরে, অতএব সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের ক্ষমতা আমার ছিলো না। তবে জীবনে কোনো ব্যাপারে মিথ্যা বলিনি বললে ভুল বলবো, কিন্তু সাহিত্যের ব্যাপারে মিথ্যা কথা কখনো বলিনা এটা ঠিক। অতএব বাচ্চু ভাই যে ও-কথা আমাকে বলেছিলেন সেটা মিথ্যা নয়। "মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নিজেকে বাঁচাচ্ছ? কালীকৃষ্ণকে সাক্ষী মেনে নিজের ঢোল পেটাচ্ছ?" দু'টি অভিযোগই ভুল। প্রথমটির উত্তর উপরে দিয়েছি। আর ঢোল-টোল পিটানোর ব্যাপারে আমি বিশ্বাসী নই, বিশ্বাসী সৃষ্টিশীল কাজে। লিখেছো, "তোমার বিখ্যাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশ প্রবল" এবং "আমি বুঝতে পারলাম, তোমার পক্ষে বললেই দেবতা, আর পক্ষে না বললেই...।" প্রথমত বিখ্যাত হওয়ার কথা মাথায় রেখে কবিতা লিখি না। আর আমি একজন পরিপূর্ণ নাস্তিক, ফলত দেবতা-ফেবতায়ও বিশ্বাস নেই; সে সাহিত্যের দেবতাই হোক আর হোক ধর্মের। তুমি সাহিত্যের দেবতা হও আমি তাতে অখুশী নই। সমালোচনারও শতভাগ অধিকার তোমার আছে। তাতে আমি খুশী। কিন্তু স্বতন্ত্র সনেট-এ যখন ছন্দ ভুলের কথা বলো তখন একটু খটকা লাগে। এই আরকি! তারপরেও এই আলোচনা বন্ধু পক্ষের, শত্রুর নয়। ভালো থাকো বন্ধু।

নাজনীন সীমন:
Since you both are from the literary world, why don't you continue your comments and feedbacks in a decent and constructive way? Also, it would be more beneficial not only for you, but for us as readers if Mr. Bagchi can pin point those structural mistakes (পর্ববিভাগজনিত) that for sure hinder the formation of a Sonnet as well as any rhythmic poem. So, let's focus on constructive criticism.

তপন বাগচী:
বাচ্চু ভাই তোমাকে কী বলেছে, সেটি তুমিই জান। তুমি যখন দেশে এসে আমাকে অভিযোগটি করেছ, আমি তখনই অস্বীকার করেছি। যে বইয়ের প্রুফ আমি দেখিনি, আমি অস্বীকার করার পরেও তার ভুলের দায় আমার ওপর চাপানো মোটেই সততার পরিচয় নয়। বাচ্চু ভাই অভিযোগ করলেও তা সত্যি হয়ে যায় না। আর সেই অভিযোগ প্রমাণের আগে তুমি প্রচার করে বেড়াতে পারো না। 'দেবতা' শব্দটি কেবল আস্তিকতাই প্রকাশ করে না। এর প্রতীকী প্রয়োগের বিষয়টি ধরতে না পারার জন্য দুঃখিত!

হাসানআল আব্দুল্লাহ:
তপন, একটি বই প্রকাশিত হবার পর ওই বইয়ের ভুল বা ইত্যাদির জন্যে কিন্তু শেষ পর্যন্ত লেখকই দায়ী। তাছাড়া, তোমার সাথে ঢাকায় যে কথা হয়েছিলো তাও আমার হুবহু মনে আছে। তুমি বলেছিলে, "বাংলা একাডেমি থেকে যার ছন্দের উপর একটি বই প্রকাশিত হয়েছে, তার সনেটে ছন্দের ভুল কি করে হয়! পরে আমি ধরতে পরলাম এগুলো প্রিন্টিং মিস্টেক।" তাহলে সেই কথা তুমিই বা আবার তুললে কেনো? আগের নোটে তুমি লিখলে, "এটি বিশাকার নামে আপনার [তোমার] মনগড়া অভিযোগ!" এই নোটে লিখলে, "ভুলের দায় আমার ওপর চাপানো মোটোই সততার পরিচয় নয়।" বন্ধু, তুমি নোটগুলো আবারো পড়ো। আমি কিন্তু তোমার উপরে দোষ চাপাইনি। লিখেছি, "বিশাকা তোমাকেই দায়ী করেছিলো।" যাহোক, বই প্রকাশের ১১ বছর পরে এসব কথা বাদ দাও। নাজনীন সীমনকে সমর্থন করে আমিও বলি, দ্বিতীয় সংস্করণের মোট ১৩০টি সনেট থেকে অনুগ্রহ করে তুমি তিনটি ভুল দেখিয়ে দাও, আমি আগামী সংস্করণে সংশোধন করে দেবো। আমি নিয়মিত পরিমার্জনায় বিশ্বাসী। অন্তত ঢাকায় আমার যে ক'জন বন্ধুকে আমি প্রকৃত বন্ধু মনে করি তুমি তাদের একজন। অতএব বন্ধুর এই উপকারটি তুমি করো। আর এই নোটো প্রকাশিত কবিতার ব্যাপারে তুমি যে মন্তব্য করেছো তার জন্যে তোমার প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা জানাই।

কুলাদা রায়:
কবিতাটি পড়েছি। পড়ে মনে হল মহাজাগতিক বোধ আমাদের টেনে নিয়ে যাচ্ছে। মিসাইল থেকে পচা জবা ফুল—অসাধারণ উত্থান পতন। মনে হল—এই কবিতায় বিগব্যাঙের ভেতর থেকে একখানা তরাস এখনো কাঁপিয়ে তুলছে। ভাল লাগল। এটা পড়ে প্রশ্ন এল—এটা কি আগে ইংরেজীতে লেখা হয়েছিল? তারপর ইংরেজী থেকে বাংলায়? না হলে কবিতাকে অনুবাদ অনুবাদ মনে হয় কেন? কেন কবিতায় ছন্দ আছে—প্রাণ নেই! ভাবনা আছে- আবিষ্কার নাই! শব্দ আছে—সম্ভাবনা নেই! হতে পারে আমার কাব্যবোধটাই নেই। কবিতার ঘূর্ণন গতির মধ্যে আরেকটি স্পীন গতি আছে- এটা ধরতে পারছি না কেন?
পড়ছি আর ভাবছি, হ্যাঁ- এটা কবিতা। একটা ঘরে একজন মানুষ শুয়ে থাকে—দেখা যায় মানুষটি শুয়ে আছে। শুয়ে থাকে। নাড়ে না, চড়ে না। কিন্তু বয়সটা থমকে আছে—শীতার্ত সময়ে, প্রবাহিত সময়ে, থেতলানো মাথায়, ভয়ার্ত বরাত নিয়ে পথের কাঙালের মতো শুয়ে থাকে। কেন সে শুয়ে থাকে? শুয়ে শুয়ে বুড়ো হয়। বয়সটা তো বুড়োই ছিল। বুড়োদের মত কবিতার কোষ্ঠকাঠিন্যে কেন এই কবিতা ভুগছে? একটি শব্দ বা চিত্রকল্প বা বোধ কানে কানে বলে না—এটা একটা জীবিত কবিতা? এর মধ্যে প্রাণ আছে? প্রাণের জয়ধ্বনি আছে? অথবা মৃত্যুর নতুন উল্লাস?
তাহলে এই কবিতাটি লিখে লাভ কি? এ কবিতা তো কষ্টকল্প। কেন তাকে ধরে বেঁধে কষ্ট দিতে আনা?
হয়তো আমার ধারণাটাও ভুল। ভুল হতে পারে কবিতা চিহ্ণগুলো সনাক্ত করার ক্ষেত্রে আমার মূর্খতা কোন দক্ষতা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সে জন্য কবির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমরা কবিতা চাই নতুন কবিতা। যে কবিতা কবিতা হয় না তাকে কখনো মহাজগতে টেনে আনলে মহাজাগতিক কবিতাদূষণ ঘটে। কবে আপনি সত্যিকারের কবিতা লিখবেন কবি? আমরা অপেক্ষা করছি—এজন্যে যে, ছন্দ আপনার আছে—শব্দ নাই। ভাবনা আছে আধুনিক চিত্রকল্প নাই। এই দুটো আনা গেলে কবিতার দেখা পাওয়া গেলেও যেতে পারে। আমরা অপেক্ষা করতে রাজী আছি। আপনি কবিতায় লেগে আছেন শুনতে পাই। তাহলে কবিতাযাত্রায় পৃথক ফল পাচ্ছেন কেন? কোন ঘাটে আপনার নৌকাটি বাঁধা কবি?

...আপনার লেখা পড়ে বুঝতে পেরেছি, আপনি গদ্য লিখুন। কবিতাকে বাদ দিন। গদ্যে আপনার সমৃদ্ধি থাকলেও থাকতে পারে। যে বোধ কবির ব্যক্তিঅভিজ্ঞতাজাত নয়—তা কখনো কবিতা বা সাহিত্য হবে না। রাজনৈতিকপ্রচার পত্র হবে। আপনার কবিতা আমাকে এই মধ্যরাতে এই বোধে টেনে নিল। আমি দুঃখিত- আপনার ব্যর্থ সনেট (যদি এটা সনেট হয়) লেখার কোসেস না করাই ভাল। আপনি শুরু করুন ছড়া দিয়ে যদি এই লাইনেই থাকতে চান। তা না হলে লেখালেখি বাদ দিয়ে সিরিয়াসলি প্রকাশনা শিল্পে চলে যান। আপনি সমৃদ্ধি পাবেন। পুরস্কার প্রদান বিষয়টি আরও হাস্যকর হয়ে উঠেছে। একসময় হাসজারু হতে আর বাকী নাই। আপনার উত্তরণ কামনা করছি। ধন্যবাদ। আমি একজন সমালোচকের চোখে এগুলো বলেছি। আশা করছি মধুর শত্রুতার বন্ধন আমাদের মধ্যে জেগে উঠবে। ওঠাটাই খুব স্বাভাবিক বাঙালীদের ভিতর। ভাল থাকুন।

...আমি কবিতার কাছে কবিতাই যাঞ্চাই করি। অন্য কিছু নয়। বিজ্ঞান লেখার জন্য বিজ্ঞানীরা আছেন। ওটা কবিদের কাজ নয়। তবে আপনার আগ্রহ থাকলে বিজ্ঞান নিয়েও প্রবন্ধ ফিকশন লিখতে পারেন। আরেকটি বিষয়—কোনো একটি কবিতায় দু'একটা বিজ্ঞান বিষয়ক শব্দ ঢুকিয়ে দিলেই কি সেটা মহাজাগতিক কবিতা হয়ে যাবে? এই কাজগুলো অনেক আগে অনেকেই করেছেন। এটা নতুন কিছু নয়। আপনার কবিতায় আপনার নিজস্ব কি ভুবন আছে আবিষ্কৃত তাই আমি পড়তে চেয়েছি। আপনার কি শব্দ নির্মিতি আছে, নিজের বলা যেতে পারে? আপনার কি চিত্রকল্প আছে, যা মনের মধ্যে গেঁথে যায়? কেন শুধু বাসি মাল দিয়ে বটতলার বই বানিয়ে বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন? মহাকবিতার নামে কেন পাঠক বিভ্রান্ত করছেন? মহাকবিতা কি বললেই মহাকবিতা হয়ে নেচে উঠবে? কবির দায় কবিতার কাছে—সততার কাছে। কবির কাছে কবিতাই চাই। ফাটা ঢোল নয়।
আশা করি, আপনার প্রচেষ্টা থাকবে কিভাবে একটি সৎ কবিতা হয়ে ওঠে সেটা অর্জন করা। অকবিতা নয়। ধন্যবাদ।

হাসানআল আব্দুল্লাহ:
প্রিয় কুলানন্দ, আপনার রবিবারের চিঠিটি পেলাম। আমার কী সৌভাগ্য যে আপনি একটি 'মৃত' কবিতার অসারত্ব বিশ্লেষণে এতোগুলো শব্দ ও এতোখানি সময় ব্যয় করেছেন।সত্যিই ধন্য হয়েছে আমার প্রচেষ্টা। এতোদিন দেখেছি আপনি নিজে বাংলা টাইপ করে অজস্র 'জীবন্ত' কবিতা ফেসবুকের পাঠকদের পড়তে দিয়েছেন। অবশেষে অসংখ্য জীবন্ত কবির হৃদয়-অভিজ্ঞতা-জারিত কাব্য উৎসারণের মাঝে অন্তত একজন মৃত কবিকে আবিষ্কার করতে পেরে আপনি যেমন তৃপ্তি পাচ্ছেন আমিও আলাদা হওয়ার সৌভাগ্যে নির্বোধের মতো আনন্দিত হচ্ছি। ভাবছি বাংলা কবিতা এমন একজন সমালোচক খুঁজছিলো বহুদিন। আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি 'মৃত' কবি ও তাদের কবিতা নিয়ে আমার সম্পাদিত পত্রিকা 'শব্দগুচ্ছ'-এ আলোচনা লেখার জন্যে। আপনার দৃষ্টিতে যে হারে জীবিত কবির ভিড় চারিদিকে, দু'একজন মৃত কবিকে তুলে ধরা বাস্তব সম্মতই হবে।...এই মুহূর্তে মনে পড়ছে আমাদের সুহৃদ, আরেকজন সমালোচক, যাঁর যোগ্য উত্তরসূরী আপানি, সেই সজনীকান্ত দাসকে, যিনি লিখেছিলেন, "ভাবকল্পনা বা কবিত্ব নির্বাসিত হইয়াছে—ভাষা ও ছন্দ দুইয়েরই আর প্রয়োজন নেই। বাংলা-কবিতার একরূপ মৃত্যু হইয়াছে...।" বাংলা ১৩৪৪ সালে 'অতি-আধুনিক কবিতা' শিরোনামে 'শনিবারের চিঠি'তে তাঁর সেই সমালোচনার সাথে আপনার এই লেখার যথেষ্ট মিল আছে। আপনাকে অভিনন্দন। ধন্যবাদ উপদেশগুলোর জন্য। বহুদিন পর একজন প্রকৃত বন্ধু পেলাম।

কুলাদা রায়:
বেশ ভাল লাগল পড়ে। নিজেকে সজনীকান্ত ভেবে আনন্দিত হয়েছি। ফেসবুক এমন একটি মাধ্যম যেখানে স্বাধীনভাবে লেখা প্রকাশ করা যায়। স্বাধীনভাবে মন্তব্য করা যায়। এ কারণেই আপনার কবিতা পড়তে পারছি। আর মন্তব্যও করতে পারছি। আমি আপনার কবিতাটি পড়েছি। আমি কোন হাই হ্যালো ধরনের সমালোচনা করিনি। করার ইচ্ছেও নেই। সাধারণত মন্তব্য আমি খুবই কম করি। দেখেছি, বাংলাভাষীরা প্রশংসা ধন্য হতে আগ্রহী। তার দুর্বলতা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী নয়। দুর্বলতাগুলো বললে শত্রুবৎ ভেবে বসেন।

আপনি লেখালেখির জগতে জানপরান দিয়েই আছেন। এটা দেখে আমার ভাল লাগে। কিন্তু এই পরিশ্রম যখন পণ্ড হয়ে যায় তখন কষ্ট লাগে। মনে হয় কি জানেন, লিখতে হলে লেখার কৌশলটা আয়ত্ত হওয়া দরকার। কৌশলটা আয়ত্ত হলেই মাঠে নামা ভাল। আর কে কবি/ অকবি/ মহাকবি সেটাতো বলবেন পাঠক। কবি নিজে কেন বলবেন? যখন আপনি অকবিতাকে কবিতা বলে ঘোষণা দিচ্ছেন— তখনতো সৎ পাঠকের কিছু দায় থেকে যায়। নয় কি? আপনার কল্যাণ হোক।

নাজনীন সীমন:
"আমি দুঃখিত- আপনার ব্যর্থ সনেট (যদি এটা সনেট হয়) লেখার কোসেস না করাই ভাল।"—Isn't it really odd to criticize without even knowing clearly what has been criticized? I think so, and because of that you are in a great dilemma to figure out if the poem containing 16 lines (not 14, one of the basic conditions of a sonnet) is a sonnet or not.

The very first letter was enjoyable giving the sense that it is attempting to disect a poem. However, as the number of letters have progressed, it had lost the essence of criticism of a sincere reader ("সৎ পাঠকের"). Rather, it turned to be a game of throwing mud to someone who is not very much liked.

"বিজ্ঞান লেখার জন্য বিজ্ঞানীরা আছেন। ওটা কবিদের কাজ নয়।"—And, who told you that a poet/writer has to be dictated by someone's wishful wisdom, or should I say wisdomless wish? Your writing does not suggest you are immature at all; yet, at times some childlike utterences tend to darken your literary sense. Sajanikanta wrote that comment when Bengali poetry was at its peak time. As time passed, though we still say his name, one can very easily distinguish the position of him in contrast to those poets like Buddhadev Bose, Jibanananda Das, Kazi Nazrul Islam, and so on criticized by him in Bengali literature. So, please don't be so proud to be someone like him ("নিজেকে সজনীকান্ত ভেবে আনন্দিত হয়েছি।"). You are more than 100% right when you said, "দেখেছি, বাংলাভাষীরা প্রশংসা ধন্য হতে আগ্রহী। তার দুর্বলতা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী নয়। দুর্বলতাগুলো বললে শত্রুবৎ ভেবে বসেন।" although this is not applicable for everyone and we rarely take the time to differentiate one from the other. The irony in Bengali literature is that everyone wants to be a poet, and many try to be a critic without even having the abcd of that topic. A very few of us have the wholesome knowledge of Bengali literature; yet, we act like we have the golden key of this ancient, rich, glorious world.

"মহাকবিতার নামে কেন পাঠক বিভ্রান্ত হচ্ছেন?"­It is very easy to make a comment like this, but would you be kind enough to clarify us, the readers, why that is not an epic. What are the charcteristics of an epic then? "পুরস্কার প্রদান বিষয়টি আরও হাস্যকর হয়ে উঠেছে।"—
I would be honored if you explain why do you think so. If acknowledging good work is a laughable matter to you, how do you then justify any award ceremony, whatever the type may be? To avoid it to be a "হাসজারু", your suggestions and comments may help, who knows?

Also, it would be very nice of you if you can provide some poets' names and a list of their poems so that the readers of fb like me will be able to know what you call a poem, and of course, therefore, your literary taste. It may also help Hassanal to figure out "কোন ঘাটে আপনার নৌকাটি বাঁধা কবি?" which in turn may lead him to be able to float back his poetic boat.

As a sincere reader, that would be your gift to the Bengali literature. I appologize to everyone for not writing in Bengali as I am unable to type Bangla which would be more convinient for me to express myself clearly.

কুলাদা রায়:
আপনার লেখা পড়ে ভাল লাগল। আপনার বিশ্লেষণী ক্ষমতার প্রশংসা করছি। আমি ভুল করেছি—ঘাট মানছি। কবিতা পড়ে এরপর বলব—খুব ভাল হয়েছে। অসাধারণ হয়েছে। কী খুশীতো?
কবিতা যখন পাঠকের কাছে আসে—তখন পাঠক তার মত করে পাঠপ্রতিক্রিয়া প্রকাশ করবেন। এতে কবি যদি অসুখী হন—তখন তার সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আর সমালোচনা করার জন্য কোর্স করে আসতে হবে—জেনে ভাল লাগল। ধন্যবাদ।

নাজনীন সীমন:
"কবিতা যখন পাঠকের কাছে আসে—তখন পাঠক তার মত করে পাঠপ্রতিক্রিয়া প্রকাশ করবেন।"­Definitely, but different readers of course hold the right to express different views.

"আমি ভুল করেছি- ঘাট মানছি। কবিতা পড়ে এরপর বলব— খুব ভাল হয়েছে। অসাধারণ হয়েছে। কী খুশীতো?" ­I don't know whose writing this comment refers to, but in the above writings no one has mentioned that. This is the result of either taking things personally or misreading it. And, when a reader comments good about any writing, that does not necessarily mean that is really a good piece and vice versa. So, the above comment is totally meaningless. This strategy may work for children, but not for an is totally dult.

To be a true and a powerful critic, one needs to know a lot about that specific topic as well as relative matters. That does not necessarily mean an official course when one has to carry a notebook, go to class, be obedient, listen carefully, take notes, and most of all, pay money to recieve a diploma. Instead, it requires many things mentioned above along with many other aspects to be a real critic, and that could be self generated if motivated. Literature is not a piece of clothing that we can say, "Wow, that's beautiful", or "that dress is ugly" and that is that. To really criticize a piece of writing, one has to know literary terms (especially applicable for poetry), genre, literary technique, background of the context, and so on and so forth. If not, a car fixed by someone without mechanical skill/knowledge will be no difference than the piece of criticism which is unfortunately the fact of our literary culture in most cases. So, preparation is a must do in such occassion, and there should not be any compromise.

কুলাদা রায়:
আমি ভাই কবির কবিতা সম্পর্কে বাংলায় যা বলেছিলাম তা আপনি বলেছেন নিচের লাইনটিতে সমালোচনা বিষয়ে। আপনার সঙ্গে ১০০% একমত। ধন্যবাদ। "preparation is a must do in such occassion, and there should not be any compromise."

আপনার দু'জন কি হন? মনে হল গভীর বন্ধু। এটা দেখা যায় না। ভাল লাগল। আপনারা দুজনে মিলে কবিতা লেখেন। আপনি নিয়ম কানুন জানে। কবি আপনার কাছ থেকে জেনে নিবেন। দেখবেন অই ভয়ার্ত শীতার্ত পুরনোগুলো পাল্টে যাবে। এ শব্দগুলো কবির কবিতাকে উঠতে দিচ্ছে না। আপনাকে একজনের কবিতা দেখাই:

কুলাদা রায়:
ক্ষমার পুকুর ক্রমশ ছোট হয়ে যায়/জাহানারা পারভীন
...

আহত মাকড়সার সামনে একটি দুপুরকে বহুদিন নতজানু হয়ে
বসে থাকতে দেখেছি। বসার ভঙ্গিটি চরে কুমিরের রোদ পোহানোর
মতো আয়েশী। নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায় এর পেছনেও আছে কোনো
শানে নযুল। মিছিলের দ্রুতগামী পায়ের নখে যতটা প্রাসঙ্গিক ধুলোবালি;
তার মতোই হতে পারে এর মানে। একটি দুপুরকে বহুদিন প্রশ্রয়ে প্রশ্রয়ে
পরিণত হতে দেখেছি বিকেলে। অতঃপর সন্ধ্যায়। রাত্রির কাছে অবশ্য কোনো
ক্ষমা নেই; কেননা, আমাদের বনসাই মনে ক্ষমার পুকুর ক্রমশ ছোট হয়ে যায়।

প্রার্থনা/ জাহানারা পারভীন
....
একক গাছেরা জানে বৃক্ষের সকল আচার...

জানে—সমর্থ কাঠঠোকরার অবিরাম ঠোকর কোনো কোনো
গাছের অনিবার্য নিয়তি। ওরাল সন্ত্রাসে মুছে যায় ধূসর বাকলে
লেখা গাছের জীবনী; বিপন্ন গাছের অধিবাসী পিঁপড়েরা
চোখের লেন্সে তুলে রাখে এসব তথ্যচিত্র।
দীঘল বর্ষণে ভরে গেলে গাছের সব খোড়ল
বানভাসী পিঁপড়েরাও খুঁজে ফেরে নিরাপদ আশ্রয়।
মৃত স্বজনের লাশ ভাসিয়ে দেয় বর্ষার স্রোতে।

কোনো কোনো দিন একনিষ্ঠ কাঠঠোকরা যখন শব্দ করে কেটে যায়
গাছের ত্বক। শিশুর সদ্য ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে পিঁপড়ে মা প্রার্থনা
করেন—আকাশ থেকে নেমে আসুক তেল বৃষ্টি। যেন তৈলাক্ত বাকলে পা
পিছলে পড়ে যায় তস্কর পাখি। যেন সে স্থির হয়ে দাঁড়াতেই না পারে;
তার পিচ্ছিল পা যেন ভেঙে দেয় ঠোঁটের মনযোগ।

প্রত্যাবর্তনই শেষ কথা নয়
আরো যারা নেমেছিল পথে, গেছে ফিরে;
প্রত্যাবর্তনের অন্য অর্থ মেনে।

পুরাতন গুহায় ডেকে এনে বান্ধব রোদ, তারা ভেবেছে—
মন্দ নয় এই স্থির বর্তমান। ফিরে যাওয়াও এক প্রস্থান বটে;

কাঁধে পিঠে মধ্যাহ্নের সূর্য নিয়ে আমরা যারা হেঁটেছি, ছুটেছি,
সূর্যাস্তের দিকে; করতোয়া, ইরাবতী, মহানন্দায় করেছি স্নান, পিঠে করে
সেই জল পৌঁছে দিয়েছি খরাক্রান্ত পাখিপল্লির গাছের কোটরে কোটরে;
আহত পাখির শুশ্রূষায় কেটেছে নির্ঘুম রাত, আত্মজার মুখ মনে করে
বিষণ্ন হতে গিয়েও ভেবেছি জনপদের সব ঘরেই তো থাকে জায়া, কন্যা,
জননীর পদচিহ্ন; তারা সবাই আজ বিপন্ন গাঙের বিরুদ্ধ স্রোতের সাঁতারু।
প্রচলিত জীবন কিছুটা হেলে উঠলে আমরা যারা নির্বিকার থাকি,
তাদের পথেই কাঁটা বিছিয়ে রাখেন আরবের সেই দুষ্টু বুড়ি।

অবশেষে দেখি—
আর সবার মতো নিজের ছায়াও কেমন ছেড়ে যায় নিজেকে।"

এ কবি অনুজ। তার শব্দের ব্যবহার, আঙ্গিক এবং বিষয়ে কোন আড়ষ্টতা নেই। খুব সহজেই বলা যায় এটা কবিতা এবং নতুন আবিষ্কার আছে। আমাদের অনেক অনুজরাও কবিতা ঠিক ঠিক লিখছেন। এটা গৌরবের। এখানে কোন কবিতাকে কষ্টকল্প বলতে হয় না। ঘুম আসছে। ভাল থাকুন। আপনাদের এপিক কবিতা পোস্ট দিয়েন। পড়ে দেখব। কোন মন্তব্য করব না আপনাদের কমেন্ট বক্সে। নোট করে রাখব।

স্বপ্ন কুমার:
Mr. kulada Roy, do you have any personal problem with Mr. Hassanal Abdullah? Why don't you leave this guy alone? I don't know you, Mr Abdullah, or Mr. Bagchi; but one thing I know for sure that you guys are mentally sick. If you don't like some one's poem or writings, don't read it. But if you read it, and if you like to comment on it, don't take it upto personal attack. You guys are poets and writers, you should be nice to other people. When you comment on some writing, it should be constructive. You should not spread stinks publicly. If I hurt any of you in any way in this comment, I am sorry. But after reading all the comments about a simple poem on Face Book, I can't help my self. Please stop this nonsense.

নাজনীন সীমন:
Preparation is needed for everything, at least that's what I believe. Please don't try to cross your limit commenting on any personal relationship. We are talking about poetry here, and literature in a broader sense; so the topic should be encircling that. If you can maintain that respectfully, we can talk more about poetry; if not, let's stop here right now.

"কোন মন্তব্য করব না আপনাদের কমেন্ট বক্সে। নোট করে রাখব।" Do you think people are threatened by your comments? I have mentioned it before, and Shopno Kumar also focused on the fact that comments/crticism should be constructive regarding or regardless it's favor to either side (positive/negetive). That is the way we learn, and I, personally do not have any problem learning from anyone as long as it is logically well explained with respect. Poetry and politics are two different things; please do not contaminate the beautiful world of literature by your hatred feeling, personal opinion like most politicians do.

I have read the above two poems and they are well written.

কুলাদা রায়:
স্বপ্ন কুমার (বাংলায় কি ঠিক লিখেছি, ভুল হলে ক্ষমা করবেন) , আপনাকে স্যালুট। আপনার বেশ হাতযশ আছে। বোঝা যাচ্ছে। ধন্যবাদ।
নাজনীন, ভাল লাগল, আপনার মন্তব্য পড়ে।

ভাইরে, আমি রাজনীতির মানুষ না। আমি সাহিত্যের ছাত্রও না। আমি একজন আম পাঠক। পাঠকের স্বাধীনতা নিয়ে আপনার কাছ থেকে অনেক শিক্ষণীয় আছে। ধন্যবাদ। কিন্তু লিমিট কি আমি ক্রস করেছি—না স্বপ্ন কুমার করেছেন—এটা ক্লিয়ার না আমার কাছে। ক্লিয়ার হলে ভাল হত। আসলে হাসান সাহেবের কবিতা পড়ে আমার যা মনে হয়েছে তাই বলেছি। আমি তো চিনি না ওনাকে। আপনাকেও না। বোঝা গেল কাউকে না চিনলে তার কবিতা পড়া যাবে না। কোনভাবে পড়ে ফেললেও কিছু মন্তব্য করা ঠিক হবে না। ধরুন, আমি যদি কবি রফিক আজাদের কবিতা পড়ি তাহলে কি ওনার অনুমতি নিতে হবে? আর যদি বলি, কবি রফিক আজাদ কবিতার নামে যা লিখেছেন, তার ৯৮%ই অকবিতা—তিনি কি আমার উপর রেগে যাবেন? আপনিও কি এভাবে আমাকে পরামর্শ দেবেন? অথচ তাঁর সমসাময়িক কবি, সিকদার আমিনুল হক ১০০%ই কবিতা লিখেছেন। কি হবে তাহলে? যদি বলি শামসুর রাহমান শেষের দিকে কবিতার নামে ডায়েরী লিখেছেন? তাহলে—কোনো নাজনীন কি আমাকে এ রকম করে বলবেন?

আচ্ছা, এই স্বপ্ন কুমার যে সিক বললেন, এটা কি শুধু আমাকেই তিনি বলছেন? আমার ইংরেজী জ্ঞান দূর্বল। উনি বুঝলেন কি করে? তার মানে উনি কিন্তু বেশ ভাল ডাক্তার। ভাল ডাক্তার কিন্তু বেশি নাই। ধন্যবাদ।

হাসানআল আব্দুল্লাহ:
প্রিয় কুলানন্দ, এই নোটে আপনি লিখতে বসেছেন আমার কবিতা 'প্রবাহিত অন্ধকার'-এর সমালোচনা করতে। আমি সেটাকে গুরুত্ব সহকারেই নিয়েছি। আপনি আমাকে অনেক উপদেশ দিয়েছেন। যদিও আমি কোনো কবি বা লেখককে উপদেশ দেয়া ধৃষ্টতার পরিচয় বলে মনে করি, তারপরও আপনি যেহেতু নিজেকে সমালোচক দাবী করেছেন, সেটাও মেনে নিয়েছি। মেনে নিয়েছি মানে ধরে নেবেন না গ্রহণ করেছি। একবার ভেবে দেখুন তো সজনীদার উপদেশগুলো যদি তিরিশ গ্রহণ করতেন তা হলে আজ বাংলা কবিতা কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো! কিন্তু সে অন্যকথা। আপনি বলেছেন আমার কবিতা 'মৃত'। কিন্ত কবিতার ভেতর থেকে তথ্য-উপাত্ত তুলে বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়ে আপনি 'সাইট কিক' হিসেবে লিখলেন, "পুরস্কার প্রদান বিষয়টি আরও হাস্যকর হয়ে উঠেছে।" অথচ এই কবিতায় কোথাও পুরস্কারের কোনো উল্লেখ নেই। আপনি লিখলেন, "মনে হয় কি জানেন, লিখতে হলে লেখার কৌশলটা আয়ত্ত হওয়া দরকার। কৌশলটা আয়ত্ত হলেই মাঠে নামা ভাল।" অথচ কবিতায় কৌশলগত ভুলগুলি ধরিয়ে দেবার চেষ্টা করলেন না। অত্যন্ত নিম্ন মানের প্রশ্ন করে উঠলেন, "আপনারা দু'জন কি হন?" শুনুন এমনই এক প্রশ্ন করেছিলেন বইমেলায় এক ভদ্র মহিলা, "শহীদ কাদরী আপনার কি হন?" আমি অবাক হয়ে বলি, "কেনো?" উত্তরে তিনি বললেন,
"আত্মীয় না হলে কাউকে নিয়ে এমন বই লেখা যায় না।" ব্যাপারটি আমার কাছে রুচিহীন মনে হওয়ায় আমি তাঁর সাথে আর কথা বাড়াইনি। ফলত আপনার 'সাইট কিকে'র ধরন দেখে একজন স্বপ্ন কুমার আমাদের সবাইকেই সিক বলে বসতে পারেন। কি পারেন না? আপনাকে যেহেতু বন্ধু মেনে নিয়েছি, আশা করি আলোচনা মূল বিষয়ে রাখবেন। নতুবা আমাদের সবারই সময় নষ্ট হবে।

...আপনি ধরেই নিয়েছেন আমি কবিতার কৌশল জানি না। হতেই পারে। একেক জনের কৌশল একেক রকম। কিন্তু ছন্দ অলংকার ইত্যাদি বিভিন্ন কৌশল নিয়ে সজনীদা কোনো বই লিখে যাননি। লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ, আব্দুল কাদির, নিরেন্দ্রনাথ, জীবন্দ্রে সিংহরায়, মনিরুজ্জামান, শঙ্খ ঘোষ, শাহজাহান ঠাকুর, হাবিব রহমান ও এই অধম—আপনার বর্ণিত মৃত কবিতার লেখক। তা বন্ধু, সজনীকান্তের মতো ভুল না করে, আসুন না কবিতার কৌশলের উপর একটি বই লিখে ফেলুন, যা পড়ে 'কৌশলটা আয়ত্ত' করে ফেলি। তবে, ধারাবাহিক ভাবে যদি বইয়ের লেখাগুলো আপনাদের সাত মহাদেশ থেকে এক যোগে প্রকাশিত অভিধানের মতো ঢাউস পত্রিকায় ছাপেন তবে পৃথিবীর তাবৎ কবিরা উপকৃত হবে।

...নাজনীন সীমনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আপনি জাহানারা পারভীনের কবিতা পড়তে দিয়েছেন। এবং আমাকে উপদেশ দিয়েছেন তাঁর থেকে শিখতে। আসলে কি জানেন, আপনি দেরী করে ফেলেছেন, বহুদিন ধরে আমি নাজনীন সীমন ও জাহানারা পারভীনের কবিতা থেকে শিখছি। ওঁরা দু'জনই অত্যন্ত ভালো কবিতা লেখে। আপনার বর্ণিত 'হাস্যকর' পুরস্কারের এবছর মনোনীত পাঁচ কবির একজন জাহানারা পারভীন। অতএব আপনার রুচিতেও পুরস্কারটি সম্ভবত আর 'হাসজারু' হচ্ছে না। কি বলেন সমালোচক? তুলে দেয়া জাহানারার দু'টি কবিতাই গুরুত্বপূর্ণ, তবে 'প্রার্থনা'র প্রথম স্তবকে 'গাছ' শব্দটি বেশ কয়েকবার ব্যবহৃত হয়েছে। জাহানারা হয়তো ভবিষ্যতে এ নিয়ে নিজেই ভাববেন। জাহানারা ও সীমনের কবিতা নিয়ে আবারও আপনাকে 'শব্দগুচ্ছ' পত্রিকায় আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রয়োজন হলে ওদের সবগুলো বই আপনাকে ফটোকপি করে পাঠাবো। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র কানাডা ও ঢাকায় বসবাসরত আপনার স্বনামধন্য লেখক/কবি ভাই-বোনদের দিয়েও সংগ্রহ করে নিতে পারেন।

হাসানআল আব্দুল্লাহ:
প্রিয় স্বপ্ন কুমার, ভাই আপনি ভুল বুঝবেন না। কুলানন্দ রায়কে আমি কোনো দিন দেখিনি। অতএব তাঁর সাথে আমার শত্রুতার সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে তা আমি বিশ্বাস করি না। আমি যা বুঝতে পারছি তা হলো আমাদের কাব্যবোধের মিল হচ্ছে না। এটা তো সাহিত্যের উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। আমি হলফ করে বলতে পরি তিনি 'সিক' নন। আমার বন্ধু তপন, ওঁর লেখালেখির আমি দারুণ ভক্ত। গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনার বই লিখেছে। আলাপ হলে দেখবেন ওঁ সত্যিই একজন ভালো মানুষ। আর আমি, আমার কথা কি বলবো, আমার সাথে আপনার দেখা হলে, হয়তো ধরেও নিতে পারেন যে আমি লোকটা 'সিক'। সেটি মূলত সাহিত্যের ব্যাপারে। আপানাকে অশেষ ধন্যবাদ।

নাজনীন সীমনকে ধন্যবাদ এই নোটে মূল্যবান আলোচনা উপহার দেবার জন্যে।

কুলাদা রায়:
প্রিয় হাসানআল আব্দুল্লাহ, কবি বা লেখককে উপদেশ দেয়া ধৃষ্টতার পরিচয়। দিয়ে ঠিক করিনি। এ জন্য গোস্তাকী মাফ করবেন।
আমি নিজেকে পাঠক হিসাবে দাবী করেছি। পাঠক হিসাবে আপনার কবিতার পাঠপ্রতিক্রিয়া জানিয়েছি। ফেসবুকে আপনি কবিতা প্রকাশ করেছেন। সেখানে বিনি পয়সায় পাঠ ও প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ রয়েছে। এ জন্য কোনো অন্যায় হয়েছে বলে মনে হয়নি।
পাঠক হিসাবে আপনার কবিতার একটি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি। এবং কেন এটা মৃত কবিতা মনে হয়েছে তার স্বপক্ষে আমার বক্তব্য তুলে ধরেছি। বলেছি:

১) আমার কাছে এটা অনুবাদ কবিতার মতো মনে হয়েছে। এ কারণেই কবিতার স্বতঃস্ফূর্ততা পাইনি।
২) কবিতায় ছন্দ আছে—প্রাণ নেই! ভাবনা আছে—আবিষ্কার নাই! শব্দ আছে—সম্ভাবনা নেই!
৩) কবিতার বয়সটা থমকে আছে—''শীতার্ত সময়ে, প্রবাহিত সময়ে, থেতলানো মাথায়, ভয়ার্ত বরাত,'' নিয়ে পথের কাঙালের মতো শুয়ে থাকে। কেন সে শুয়ে থাকে? শুয়ে শুয়ে বুড়ো হয়। বয়সটা তো বুড়োই ছিল। বুড়োদের মত কবিতার কোষ্ঠকাঠিন্যে কেন এই কবিতা ভুগছে?"
৪) একটি শব্দ বা চিত্রকল্প বা বোধ কানে কানে বলে না—এটা একটা জীবিত কবিতা? এরই মধ্যে প্রাণ আছে? প্রাণের জয়ধ্বনি আছে? অথবা মৃত্যুর নতুন উল্লাস?
৫) এ কবিতা তো কষ্টকল্প।
বলেছি—ছন্দ আপনার আছে—শব্দ নাই। ভাবনা আছে আধুনিক চিত্রকল্প নাই। এবং তারপরও বলেছি—এই দুটো আনা গেলে কবিতার দেখা পাওয়া গেলেও যেতে পারে।

আপনার কবিতা চর্চা এবং কবিতা যাত্রার প্রশংসা করেছি। এবং আমার মনে হয়েছে—আপনার এই দীর্ঘ চর্চা এবং যাত্রার ফলাফলটি ফলদায়ক হচ্ছে না। মনে হয় আপনি আপনার আকাঙ্ক্ষিত কবিতার ঘাটটি চিনতে ভুল করেছেন। আপনি অঘাটায় নৌকা ভিড়িয়েছেন।
এখন বলুন আমি কি আমার বোধ অনুসারে আমার পাঠপ্রতিক্রিয়ার স্বপক্ষে আমার পর্যবেক্ষণকৃত প্রমাণাদি দেই নি? এভাবে কবিতাকে খুলে দেখার মধ্যে আমার অন্যায়টা কোথায়? আমি তো মনে করি পাঠকই কবির আসল বন্ধু। বন্ধু মানে কি দুর্বলতাকে চোখে আঙুল তুলে না দেখানো? সব সময় বলা—হ্যাঁ, খুব ভাল হয়েছে। অসাধারণ হয়েছে। ভাই এটা চাটুকারিতা। আমি চাটুকার নই।

কুলাদা রায়:
আমি আপনাকে একজন সৃষ্টিশীল মানুষই মনে করেছি। তাই মনে হয়েছে- আপনার কবিতার চেয়ে গদ্যে অন্বিষ্ট হওয়া ভাল। এটা আমার মত। আপনি গ্রহণ করবেন—আমি দাবী করিনি। আর আমার মতটা যে সঠিক তাও বলিনি। আমি বলেছি— "হয়তো আমার ধারণাটাও ভুল হতে পারে। ভুল হতে পারে কবিতা চিহ্ণগুলো সনাক্ত করার ক্ষেত্রে আমার মূর্খতা কোন দক্ষতা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সে জন্য কবির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।" আমি সাহিত্যের ছাত্রও না। আমি একজন আম পাঠক।'
আপনি কবিতার কৌশল জানেন না—এটা কখন বলেছি? বলেছি—আপনার হাতে কবিতা হয়ে উঠছে না। নিয়ম জানলেই তিনি বড় শিল্পী হয়ে যাবেন এটা কি ঠিক? তাহলেতো সঙ্গীত পরিচালকগণই সবচেয়ে বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী হয়ে উঠতেন। কোন এক লতা হতেন না। বাংলাদেশে সাহিত্যের সকল ডিগ্রীধারীরাই বড় সাহিত্যিক হতেন।
আপনি কবিতার নিয়ম জানেন বলেই আপনি কবিতা নিয়ে বই লিখেছেন। কবিদের নিয়ে লিখেছেন। এসবতো আর মৌলিক রচনা নয়—কবিতা নয়।... আমি আম পাঠক, প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি মাত্র।

আপনি আমার মন্তব্য পড়ে অনেক সময় ব্যয় করে দীর্ঘ মন্তব্য লিখেছেন- তার জন্য ধন্যবাদ।

হাসানআল আব্দুল্লাহ:
শেষ নোট:
রফিক আজাদের কবিতা সংখ্যা ৩৭৭ (সমগ্র, ১৯৯৬)। এর পরেও বিস্তর লিখেছেন তিনি। আলোচনার খাতিরে ধরে নেয়া যাক ৫০০। আপনার মতে তাঁর ভালো কবিতা ১০টি ["৯৮%ই অকবিতা"]। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে রফিক আজাদ আমাদের দেশের একজন মেজর কবি। অন্যদিকে শ্রেষ্ঠ কবিতা'য় (২০০০) সিকদারের কবিতা সংখ্যা ২১৪। আবারো ধরে নেয়া যাক তাঁর মোট কবিতা ৩০০টি। আপনি লিখেছেন, "সিকদার আমিনুল হক ১০০%ই কবিতা লিখেছেন।" তার মানে দাঁড়ালো তিনি ৩০০টি ভালো কবিতা লিখেছেন। অতএব সিকদার সর্বকালের-সর্বভাষার শ্রেষ্ঠ কবি হয়ে গেলেন। প্রিয় কুলানন্দ, বাংলাদেশের দু'জন গৌণ কবিকে আপনার মতন 'আম পাঠক' বা কালেভদ্রে সমালোচক কোথায় তুলে দিয়েছে সেটা কি বুঝতে পারছেন? কবিতা বোধের এই অসামান্য দক্ষতা নিয়ে আপনি আমার একটি গৌণ কবিতার যে সমালোচনা করেছেন আমি তাতে ধন্য হয়েছি। আপনার হাতে দেয়া হলো কুঠার কবিতাকে বিচূর্ণ করার জন্যে, আপনি উল্টা দিক দিয়ে পিটিয়ে বেচারা কুঠারেরই বাট ভেঙে থ্যাতলা করে ফেললেন। তাই, আপনার সমালোচনার শক্তি ও ধৈর্যকে সাধুবাদ জানাই বলি, আপনার বোধ তৈরী হয়েছে আবেগ দিয়ে, উৎকৃষ্টতার মাপকাঠিতে নয়। অতএব সজনীকান্তের মতো আপনি কবিতাকে 'মৃত' ঘোষণা করে যান, এক মন্তব্যের পাশ কাটিয়ে অন্য মন্তব্যকে সুবিধা মতো আঁকড়ে ধরুন, যথেচ্ছাচার উপসংহারে অবতীর্ণ হন, উপদেশ দিতে থাকুন, আর তথাকথিত 'জীবন্ত' কবিদের কবিতা ফেসবুকে একের পর এক তুলে ধরে পাঠক বিভ্রান্ত করুন তাতে প্রকৃত কবিতার কিছুই যাবে আসবে না। ভালো থাকুন বন্ধু।

মহাকাশে একবিন্দু ক্ষুদ্র ধূলি কণা
আপেক্ষিকতার মাপে তার থেকে ছোটো
ভাসমান এই গ্রহ যেনো আবর্জনা
অন্ধকার কেড়ে নিলো তার দুই ঠোঁটও।

স্বপ্ন কুমার:
"Hassanal Bhai, I want to request you something—please don't listen to Mr. Kulada Roy. I was feeling bad for commenting on Mr. Roy's comment. But after reading his recent comment on your wall I am feeling really bad for him. I got a feeling that this guy has some serious issues. He even lied on his last post. He does not even remember what he has said earlier. He told you "Kobitar kousol prothomay sikhun...." Now he is saying "Ami kokhon bollam...." Mr. Kulada, don't you think you already spread enough stinks? Don't make yourself a laughing-stock please.

কুলাদা রায়:
...কথার জাল থেকে কথা আটকে যায়। কথা দিয়েই তা উদ্ধার করতে হবে। সময় এসেছে কথা দিয়ে জাল পরিষ্কার করার। স্বপন কুমার, আসুন না কথার জাল কাটুন কথা দিয়ে। আমার কৌতূহল ছিল এই কবির প্রতি। তিনি কবিতা, সাহিত্য নিয়ে অনেক কিছু করেন। অনলাইন কবিগুচ্ছ[!] করেন, পুরস্কার দেন, দু'একজন কবির সঙ্গে নিকটজনকেও দেন, নিউইয়র্কে বড়ো সড়ো অনুষ্ঠান করেন—লোক আসে পাঁচজন। হুমায়ুন আজাদকে নিয়ে যে বই বের করেছেন—তার প্রচ্ছদ বীভৎস। আর নতুন সনেট, মহাকাব্য রচনার খরসান প্রচার—এগুলোর আত্ম প্রচারণা অরুচিকর।...

Shabdaguchha, an International Bilingual Poetry Journal, edited by Hassanal Abdullah