Shabdaguchha, A Selection From the 14th Alternative New Year's Day Reading


বাংলায় যাদের কবিতা ছাপা হয়েছে:

শম্ভু রক্ষিত
কালীকৃষ্ণ গুহ
প্রবীর দাস
আনিসুর রহমান অপু
কবির হুমায়ূন
বিশ্বজিৎ মণ্ডল
রেজানুর রহমান রেজা
আলোড়ন খীসা
রাসেল আহমেদ
উদয় শংকর দুর্জয়


























































Back to Issue 45_46
Back to Front Page
Shabdaguchha: Logo
Issue 45/46 : July - Dec 2009 : Volume 12 No 1/2



শম্ভু রক্ষিত

অস্তিত্ব

আমার অস্থির কাঁপা হাত দিয়ে যখন আমি
তোমার হাড়-মাংস-তুস পান করতে আসি
স্বর্ণখনি উসকে জাদুর তুলার রাজ্য নিতে আসি
অনুভূতির যেন স্বার্থহীন যাত্রা

হোভারক্রাফট, মনোরেল চড়ে
যখন আমি তোমাকে গোপন ও গ্রাস করি
পুরাণকাহিনি, মেধমূর্তি, অগ্নিসংঘর্ষ
আমাকে রোশনি অভ্যর্থনা করতে চায়
এবং অফুরন্ত সুযোগ নিয়ে
যখন আমি আকাশে বৃহৎ বেলুনের নকশা আঁকি
আমার দূরবীনে ভিন্ন দুই নেবুলামণ্ডল কাঁপে
হরেকরকম জগৎ
কে যেন বয়ে আনে
আমি জানি, সবই জানি
নাটক সংগীত গুটিপোকা
কখনও সুতোহীন
আমি প্রথম উঁচু হয়ে নীচে দৌড়ে যাই
আমি তোমার অস্তিত্ব চেপে ধরি

আমি বাতাস ধরে ঘূর্ণির ধারে তোমাকে প্রথম ঝুঁকে দেখি

আর আন্ডারগ্রাউন্ড বা পুতুলের মিউজিয়ামে
যখন আমি খক্খক্ করে উঠি
আমি স্থলের সম্রাট, ভূ-আলোড়নের চাপে পড়ে অস্ত্র উৎপাদক
আমাকে উড়িয়ে নাও
বর্ণ নিরূপক যন্ত্র আমাকে গ্রাহ্যই করে না
ধোঁয়া ও ধুলো কুণ্ডলী করে ঘুরে
সরু হয়ে নেমে আসে
পৃথিবী আমার মতো প্রতিষ্ঠিত কুৎসিত হয়ে যায়

মেদিনীপুর


কালীকৃষ্ণ গুহ

গহ্বর

প্রথমে কবিতা
দর্শন তারপর
মাঝখানে এক
অরচিত গহ্বর।

মাঝখানে দিন
রাতজাগা মাঝখানে
পিপাসার ঋতু
ঝরাপাতা টেনে আনে

কবিতাকে ভেঙে
দর্শনে নিয়ে যাওয়া─
মাঠ আলো আর
আকাশ, দূরের হাওয়া।

কারা চেয়েছিলো
কবিতার দর্শন?
প্রশ্নের ভূমি
প্রান্তিক, নির্জন।

কোনদিকে যাবে
হে রক্ত দূরগামী?
চলো তবে সেই
গহ্বরে গিয়ে নামি!

কলকাতা


আনিসুর রহমান অপু

অথবা নিজস্ব গুমোট

পথবাতির মেধাবী আলোয় যখন নিঃশ্বাসের কাছাকাছি এসেছিলে
রূঢ় রোদে পোড়া সিঁদুরে মেঘের ঘ্রাণ পেয়েছিলাম তোমার ঠোঁটে
আমি দিগ্ভ্রান্ত মাঝির মতন সম্ভাব্য ঝড়ের
প্রস্তুতি নিয়েই ভেবেছি তখন। রাতের প্রশ্রয় কিংবা
অল্প জ্বরের মতন সান্নিধ্যের বর্ণিল উত্তাপ ছুঁয়ে
দেখার আগেই এসে পড়েছিল যার যার নিঃশব্দ স্টপেজ

টানেলের দীর্ঘ অন্ধকার শেষে জলপাই উপত্যকার স্বপ্নভ্রমণ
বিপন্ন প্রজাপতির মতো ভেঙে যায়। অনুভবে ধ্বসে যায়
সব আয়োজন। আসন্ন বৃষ্টির ডানার খরার
শেকল পরিয়ে ফিরে আসে নিজস্ব গুমোট।

নিউইয়র্ক


রেজানুর রহমান রেজা

অন্যরকম দিন

অন্যদিনের মতোই লাগছে আজকের সকাল
শুধু সূর্যটা অনেক উঁচু ঘুড়ির মতো চুপ হয়ে আছে,
আলোর সুতো নাড়িয়ে দিয়েছে হাওয়া।

কিছুটা দূরের ফুলের মধু খেতে যাবে
ভাবছে প্রজাপতি।
ঝুরঝুর আলো ঝেড়ে ফেলছে ব্যস্ত পাখনা থেকে।

পাতার জানালা খুলে দেখছে পাখিরা
কতটা সকাল হলো, কতটুকু শুকালো শিশির...

বাঁশবনে শরীর জুড়িয়ে বাতাস
চললো আবার মেঘের বন্ধুতায়,
আমিও না হয়
উড়ালাম মনের ঘুড়ি
সুতো বেঁধে সময়ের নাটায়।

ম্যাসাচুসেটস্


রাসেল আহমেদ

লোকটা চ'লে গেলো

এবার তবে যাই─বলে লোকটা চ’লে গেলো
একটা সমুদ্দুরময়
কিংবা এক বাগান ভর্তি রোদ্দুরময়
রহস্য রেখে; কী যে পেলো─
আমাদের! আমরা বুঝি মেনি বিড়াল! মাছের
কাঁটার মতো কেবল রহস্য খুঁজবো
মুঠোতে মাটিকাদার হাড়ের ছায়ার সাথে যুঝবো
গোড়ালিতে শুষ্কপাতা ছাইয়ের গুঁড়ো যে গাছের─
শেকড়ভর্তি পায়ে রহস্য আর রহস্য
যেন গলি; গলির পরে তস্য─
গলি; কী এক রহস্য রেখে─এবার তবে যাই...
ঐ একটা কথার জন্যেই আজ আমরা
পৃথিবীর শক্ত বুক মাড়াই;
লোকটা চ’লে গেলো; এখনো মাটিতে তার পায়ের ছাপ
সাদা ধবধবে।

ঢাকা






প্রকাশিত অন্যান্য কবিতাগুলো মূল পত্রিকায় পড়ুন...

Shabdaguchha, an International Bilingual Poetry Journal, edited by Hassanal Abdullah